মঠবাড়িয়ায় করোনা টেস্ট কিট ও পরিপূর্ণ আইসোলেশন সেন্টার জরুরি - অনলাইন মঠবা‌ড়িয়া সেবা

শিরোনাম

"সত্য প্রকা‌শে আমরা"

Post Top Ad

Wikipedia

সার্চ ফলাফল

১৪ এপ্রিল, ২০২০

মঠবাড়িয়ায় করোনা টেস্ট কিট ও পরিপূর্ণ আইসোলেশন সেন্টার জরুরি

পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলায় প্রায় ৫ লক্ষাধিক নাগরিকের বসবাস। এই উপজেলার অন্যতম অর্থ আয়ের উৎস বেশীরভাগ প্রবাসীদের উপর নির্ভরশীল। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাস বিস্তার লাভ করলে বিশ্বের বিভিন্ন করোনা আক্রান্ত দেশ থেকে প্রবাসীগণ ও দেশের বানিজ্যিক এলাকা সমূহ বিশেষ করে ঢাকা এবং নারায়ণগঞ্জ থেকে বিপুলসংখ্যক কর্মজীবি মানুষেরা দ্বিধাহীনভাবে মঠবাড়িয়াতে প্রবেশ করে। এ সকল প্রবাসী ও কর্মজীবি মানুষগণের মধ্যে বেশীরভাগ মানুষ সরকার প্রদত্ত নির্দেশনাবলি ও হোম কোয়ারেন্টাইন ঠিক মত না মেনে মঠবাড়িয়া জুড়ে অবাধ বিচরণ করেন। এমনকি প্রশাসনের কড়াকড়ি থাকা সত্বেও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে তাদেরকে প্রায়শই হাট-বাজারে আসা সহ পরিবার ও নিকটাত্মীয়দের সংস্পর্শে আসতে দেখা গেছে। ঠিক এই পরিস্থিতিতে গতকাল নারায়ণগঞ্জ থেকে আগত এক ব্যক্তির শরীরে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজে পরিক্ষার মাধ্যমে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি সনাক্ত করা হয়েছে। যিনি তার শরীরে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ব্যাপারে সন্ধিহান ছিলেন। পরবর্তীতে তাকে মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়। একই সময়ে আরো কয়েকজন রোগীকে সন্দেহজনক ভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। মঠবাড়িয়ায় করোনা ভাইরাসের এই অগ্রগতিতে নেই কোন প্রয়োজনীয় টেস্ট কিট ও আলাদা আইসোলেশন সেন্টার। বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের যে স্থানটিতে করোনা আক্রান্ত রোগীদের প্রাথমিকভাবে রাখা হচ্ছে সেটি হাসপাতাল গেট সংলগ্ন একটি স্থান। এ স্থানটি পরিপূর্ণ ভাবে এখনো আইসোলেশনের অবস্থায় না থাকা এবং জন-মানুষের কাছাকাছি হওয়ায় এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। কারণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৪ ঘন্টা বিভিন্ন রোগী ও তাদের আত্মীয় স্বজন সহ হাসপাতাল মসজিদ ও কোয়ার্টারে বিভিন্ন মানুষের যাতায়াত এবং হসপিটাল গেট সংলগ্ন অধিকসংখ্যক জনবহুল ফার্মেসী ও ডায়গনিস্টিক সেন্টার বিদ্যমান।মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে উপজেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে আইসোলেশন সেন্টারে রুপান্তরিত করার প্রস্তাব করলে কোন প্রতিষ্ঠানই এখনো রাজী হয়নি। সুতরাং এই অবস্থায় করোনায় আক্রান্ত রোগী বৃদ্ধি পেলে তাদের জন্য সেন্টাল অক্সিজেন ও ভেন্টিলেটরসহ পরিপূর্ণ একটি আইসোলেশন ইউনিট অথবা চিকিৎসক ও নার্সদের তত্ত্বাবধানে আলাদা কোন স্থানে একটি আইসোলেশন সেন্টার স্হাপন করা জরুরী হবে। এছাড়াও মঠবাড়িয়াতে এই মুহুর্তে করোনা ভাইরাস পরিক্ষার জন্য সনাক্তকরণ কীট ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির দ্রুত ব্যবস্থা করা উচিত। যার মাধ্যমে আক্রান্ত রোগীকে সনাক্ত করে সঠিকভাবে আইসোলেশনে রেখে এই মহামারী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধ সম্ভব হবে। এ ব্যাপারে মঠবাড়ীয়া উপজেলা পরিষদের সম্মানিত চেয়ারম্যান, মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সজাগ দৃষ্টি আকর্ষণ করি এবং তাদের প্রশংসনীয় উদ্যোগের সফলতা কামনা করছি। সর্বোপরি মঠবাড়িয়া উপজেলায় করোনা ভাইরাসের বিস্তার এবং মহামারী মোকাবিলা  ও দূর্যোগকালীন এই সময়ে গরীব অসহায় এবং কর্মহীন মানুষের পাশে দাড়ানোর জন্য সবাই বদ্ধপরিকর হই।

হাদিউজ্জামান আরিফ
শিক্ষার্থী, ড্যাফোডিল আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন