মঠবাড়িয়ায় ওসির বিরুদ্ধে ভিকটিমের বক্তব্য অনুযায়ী মামলা না নেয়ার অভিযোগ-অস্বীকার করলেন ওসি - অনলাইন মঠবা‌ড়িয়া সেবা

শিরোনাম

"সত্য প্রকা‌শে আমরা"

Post Top Ad

Wikipedia

সার্চ ফলাফল

২২ এপ্রিল, ২০২০

মঠবাড়িয়ায় ওসির বিরুদ্ধে ভিকটিমের বক্তব্য অনুযায়ী মামলা না নেয়ার অভিযোগ-অস্বীকার করলেন ওসি

মাসুম ফরাজি : পিরোজপুরে মঠবাড়িয়ায় সদ্য নবজাতকের মা হওয়া এক স্কুল ছাত্রীর (ভিকটিম) বক্তব্য অনুযায়ী মামলা নেয়নি মঠবাড়িয়া থানার ওসি মাসুদুজ্জামান। ওই স্কুল ছাত্রীর (১২) জবানবন্দি দেয়ার সময় ধর্ষনের সহযোগি হিসেবে প্রতিবেশী বাচ্চু মৃধার নাম বলায় পৃথক ভাবেই ভিকটিম ও তার পিতা (বাদি) কে ধমক দেয় ওসি মাসুদুজ্জামান ও এসআই শহিদুল ইসলাম। পরে ধর্ষক হিসেবে শুধু রুহুল আমিন (৬০)  এর নামে মামলা নেয়াসহ গ্রেপ্তার করা হয়। রুহুল আমিন উপজেলার তুষখালী ইউনিয়নের জানখালী নতুন বাজার এলাকার বাসিন্দা। তার পিতার নাম মৃত. মফেজ উদ্দিন হাওলাদার।

এ ঘটনায় ভিকটিমের পিতা ও মামলার বাদি ওসি মাসুদুজ্জামান ও এসআই শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে পিরোজপুর পুলিশ সুপার বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেন। পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খান বিষয়টি অনুসন্ধান পূর্বক ব্যবস্থা নেয়া ও রিপোর্ট প্রদানের জন্য সহকারি পুলিশ সুপার (মঠবাড়িয়া সার্কেল) হাসান মোস্তফা স্বপনকে নির্দেশ দেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওই স্কুল ছাত্রী অন্তঃস্বত্তা হবার বিষয়টি তার পরিবারের সদস্যদের নজরে আসলে গত ১২ এপ্রিল ওই ধর্ষিতা অন্তঃস্বত্ত¡া স্কুল ছাত্রী ও তার পিতা মঠবাড়িয়া থানায় মামলা করতে যায়। প্রথমে এসআই শহিদুল ইসলাম ওই স্কুল ছাত্রীর জবানবন্দি গ্রহণ করে। ধর্ষিতা অন্তঃস্বত্তা  স্কুল ছাত্রী তাকে জানায় প্রতিবেশী মৃত. আঃ গণি মৃধার ছেলে বাচ্চু মৃধা ও নতুন বাজারের রুহুল স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে উত্যাক্ত করাসহ কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলো। গত ১০ মাস আগে একদিন সকাল ১১ টার দিয়ে বাচ্চু মৃধার বাগানের মধ্য দিয়ে জনৈক মহানন্দের বাড়িতে পান কিনতে যায়। এসময় রুহুল তাকে ডাক দেয়। সে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে বাচ্চু মৃধা তাকে ধরে সাথে থাকা গামছা দিয়ে হাত বেঁধে রুহুলের হাতে তুলে দিয়ে চলে যায়। পরে রুহুল তার কোমরের গামছা খুলে মুখ বেধে ওই বাগানেই শোয়াইয়া ধর্ষন করে। পরে কোন রকম ছুটে গিয়ে চিৎকার করলে একটি হিন্দু ছেলে এগিয়ে আসার  চেষ্টা করলে তাকেও ধমক দিয়ে তাদিয়ে দেয় রুহুল।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয় বাচ্চু মৃধার নাম বলাতেই এসআই শহিদুল ইসলাম তাদেরকে ধমক দেয়। একই ভাবে পৃথক জবানবন্দি গ্রহণ করার সময় ওসি মাসুদুজ্জামান ধমক দেয়। অজ্ঞাত কারনে বাচ্চু মৃধাকে আসামী না করে রুহুল আমিনকে আসামী করে মামলা নিয়ে রুহুলকে গ্রেপ্তার করে। মামলা নং-জিআর-১৬৫, তারখি-১২/০৪/২০২০।

এব্যপারে মঠবাড়িয়া রিপোর্টার্স ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মো. ফারুক হোসেন মুঠোফোনে ওসির বক্তব্য নিতে গেলে মঠবাড়িয়া থানর ওসি মাসুদুজ্জামান ভিকটিম ও বাদীকে ধমক দেয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, বাদির নিকট থেকে নতুন করে আরও একটি অভিযোগ নেয়া হয়েছে। তদন্তে বাচ্চু মৃধার নাম উঠে আসলে তাকে আসামী হিসেবে অন্তভক্ত করা হবে।

সহকারি পুলিশ সুপার (মঠবাড়িয়া সার্কেল) হাসান মোস্তফা স্বপন ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,  বিষয়টি তদন্তাধীন আছে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন